মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা

জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ওপেক প্লাসের

যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

এরপর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে যুদ্ধাবস্থা। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে ওপেক প্লাস। জোটের সদস্য দেশগুলো বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে জ্বালানি তেলের উত্তোলন সামান্য বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। খবর রয়টার্স।

ওপেক প্লাস মূলত পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক এবং রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত। গত শনিবার থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ নিয়েছে জোটটি। ইরানের পক্ষ থেকে এ অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের সতর্কবার্তা দেয়ার পরই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা শুরু হয়।

ওপেক প্লাসের সদস্যরা গতকাল অনুষ্ঠিত বৈঠকে দৈনিক দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও বৈঠকে দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার থেকে শুরু করে ৫ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল পর্যন্ত উত্তোলন বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বাজার ভারসাম্য রক্ষায় মধ্যম মানের এ প্রবৃদ্ধি বেছে নেয় জোটটি। মূলত ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা কাটিয়ে উঠতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ট্রানজিটের ২০ শতাংশের বেশি পরিবাহিত হয়। গুরুত্বপূর্ণ এ পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় গত শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলারে উঠে যায়। এটি গত জুলাইয়ের পর জ্বালানি পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম। রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরব গত কয়েক সপ্তাহেই তাদের উত্তোলন ও রফতানি বাড়িয়ে আসছিল। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রপথে নেভিগেশন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রিয়াদ ও আবুধাবির পক্ষে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে পাঠানো কঠিন হবে।

আগের বছরগুলোয় বড় কোনো সরবরাহ সংকটে ওপেক প্লাস দ্রুত উত্তোলন বাড়িয়ে বাজার শান্ত করত। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। আরবিসির প্রবীণ ওপেক বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট বলেন, ‘ওপেক প্লাস উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বাজারের ওপর এর প্রভাব খুব বেশি হবে না। কারণ সৌদি আরব ছাড়া জোটের অন্য দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদনের সক্ষমতা খুবই সীমিত।’

বার্কলেসের বিশ্লেষকরাও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা জানান, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নেতারাও ওয়াশিংটনকে এ বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক করেছেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান, কুয়েত, ইরাক, আলজেরিয়া ও ওমান এ আট দেশই মূলত বর্তমান উত্তোলন পরিবর্তনের মূল সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। জোটটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দৈনিক প্রায় ২৯ লাখ ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিলেও মৌসুমজনিত কারণে জানুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত তা স্থগিত রাখার কথা ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা সে পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে।

আরও